ভিপি/এপি সম্পর্কে

অর্পিত সম্পত্তি:  ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে যেসকল লোক পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে গিয়ে বসবাস করছিল তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি পাকিস্তান সরকার শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭৪ সাল থেকে শত্রু সম্পত্তির নতুন নাম দেওয়া হয় অর্পিত সম্পত্তি।

১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। এ অধ্যাদেশের ৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একই তারিখে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এ বিধিমালার ১৮২ বিধির (১) উপবিধির (খ) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর একটি আদেশ জারি করেন। এ আদেশে উক্ত বিধিমালার ১৬৯ (৪) বিধির সংজ্ঞানুসারে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত সকল জমি ও তাতে অবস্থিত ভবনসমূহ ও অস্থাবর সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তির উপ-তত্ত্বাবধায়ক বরাবর ন্যস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়। ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে উপ-তত্ত্বাবধায়ক বরাবর ন্যস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বিনিময়, দান, উইল, বন্ধক, ইজারা, দর-ইজারা বা অন্য কোনো প্রকারে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয় এবং এ আদেশের পরিপন্থী যেকোন প্রকার হস্তান্তর অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়।

স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে আইনের ধারাবাহিকতা প্রয়োগাদেশ ১৯৭১ (The Laws of Continuance Enforcement Order, 1971) অনুসারে শত্রু সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইন বলবৎ থাকে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ২৯ নং আদেশ অনুসারে  ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অর্পিত সম্পত্তি বাংলাদেশ সরকারের অর্পিত সম্পত্তি বলে পরিগণিত হয়।

পরিত্যক্ত সম্পত্তি  স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশে অনেক সম্পত্তি পরিত্যক্ত বলে চিহ্নিত হয়। এগুলির মালিকরা মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত হয় কিংবা বাংলাদেশ ত্যাগ করে এবং অনেকের কোন ঠিকানা জানা যায় না। এসব সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, নিষ্পত্তির ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি) আদেশ জারি করেন। এই আদেশের ২৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ৮ মে বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি) বিধিও জারি করেন। এই আদেশের ২নং ধারার দফা (১) ক. ২৫ মার্চ, ১৯৭১ সালের পর যেকোন সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কিংবা সামরিক অভিযানে নিয়োজিত ছিল এমন কোন রাষ্ট্রের নাগরিকের সম্পত্তি; এবং খ. বাংলাদেশ শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ আদেশের আওতায় ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত যেকোন সম্পত্তিসহ যে ব্যক্তি বাংলাদেশে উপস্থিত নেই কিংবা যার নিবাস-ঠিকানা ইত্যাদি অজ্ঞাত কিংবা যে ব্যক্তি আর তার সম্পত্তির দখলে নেই কিংবা তত্ত্বাবধানে নেই বা ব্যবস্থাপনাও করছে না এমন সকল সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

অর্পিত সম্পত্তি  ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে যেসকল লোক পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে গিয়ে বসবাস করছিল তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি পাকিস্তান সরকার শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭৪ সাল থেকে শত্রু সম্পত্তির নতুন নাম দেওয়া হয় অর্পিত সম্পত্তি।

১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। এ অধ্যাদেশের ৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একই তারিখে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এ বিধিমালার ১৮২ বিধির (১) উপবিধির (খ) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর একটি আদেশ জারি করেন। এ আদেশে উক্ত বিধিমালার ১৬৯ (৪) বিধির সংজ্ঞানুসারে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত সকল জমি ও তাতে অবস্থিত ভবনসমূহ ও অস্থাবর সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তির উপ-তত্ত্বাবধায়ক বরাবর ন্যস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়। ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে উপ-তত্ত্বাবধায়ক বরাবর ন্যস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বিনিময়, দান, উইল, বন্ধক, ইজারা, দর-ইজারা বা অন্য কোনো প্রকারে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয় এবং এ আদেশের পরিপন্থী যেকোন প্রকার হস্তান্তর অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়।

পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ১৯৬৬ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান শত্রু সম্পত্তি (জমি ও ইমারত) প্রশাসন ও নিষ্পত্তিকরণ আদেশ, ১৯৬৬ জারি করেন। এ আদেশে তত্ত্বাবধায়ক, উপ-তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারি তত্ত্বাবধায়কদের অনধিক এক বছর ভিত্তিতে ইজারা প্রদান করে যাবতীয় সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ বিভাগের পরিচালককে শত্রু সম্পত্তির উপ-তত্ত্বাবধায়ক (জমি ও ইমারত) এবং জেলা প্রশাসকদের সহকারি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং মহকুমা প্রশাসকদেরও সহকারি তত্ত্বাবধায়ক রূপে নিয়োগ করা হয়।

১৯৬৬ সালের ১৪ মার্চ উপ-তত্ত্বাবধায়ক (পরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ, পূর্ব পাকিস্তান) শত্রু সম্পত্তির (জমি ইমারত) দখল গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলি লিপিবদ্ধ করে একটি স্মারক জারি করেন। শত্রু সম্পত্তি (জমি ও ইমারত) চিহ্নিতকরণ, দখলগ্রহণ এবং অনধিক এক বছরের জন্য ইজারা প্রদান করার জন্য এ স্মারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো শ্রেণির জমির ইজারা অর্থের হার কি হবে, এক পরিবারকে কত পরিমাণ জমি ইজারা দেওয়া যাবে, শহর ও গ্রাম এলাকায় বসতবাড়ি ইজারা প্রদানের পদ্ধতি কি হবে, হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি কি হবে, এসব বিষয় উক্ত স্মারকে উল্লেখ করা হয়। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সরকারের পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো শত্রু সম্পত্তি বিক্রয় বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাবে না বলে উক্ত স্মারকে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। শত্রু সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আয় ও ব্যয়ের আলাদা আলাদা হিসাব সংরক্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। বন্দোবস্তকৃত জমির হিসাব এবং তা থেকে প্রাপ্ত আয় ও ব্যবস্থাপনার ব্যয়-সম্বলিত প্রতিবেদন নিয়মিত প্রেরণ করার জন্যও সহকারি তত্ত্বাবধায়কদের উক্ত স্মারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। শত্রু সম্পত্তির যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত উপ-তত্ত্বাবধায়ক বিভিন্ন সময়ে বহু বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা জারি করেন।

১৯৬৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পর পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অধ্যাদেশ এবং পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধিমালার কার্যকারিতা ও বৈধতা রহিত হয়ে যায়। পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধিমালার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে ১৯৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি শত্রু সম্পত্তি (জরুরি বিধানসমূহের ধারাবাহিকতা) অধ্যাদেশ (১৯৬৯ সালের ১নং অধ্যাদেশ) জারি করা হয়। এ অধ্যাদেশ শত্রু সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।

স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে আইনের ধারাবাহিকতা প্রয়োগাদেশ ১৯৭১ (The Laws of Continuance Enforcement Order, 1971) অনুসারে শত্রু সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইন বলবৎ থাকে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ২৯ নং আদেশ অনুসারে  ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অর্পিত সম্পত্তি বাংলাদেশ সরকারের অর্পিত সম্পত্তি বলে পরিগণিত হয়।

১৯৭৪ সালে শত্রু সম্পত্তি আইন (১৯৭৪ সালের ৪৫ নং আইন) পাস করা হয়। পূর্বে তত্ত্বাবধায়ক বরাবর ন্যস্ত সকল শত্রু সম্পত্তি এ আইনবলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে অর্পিত হয় এবং শত্রু সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৭৬ সালে এ আইনটি সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে সরকার বরাবর অর্পিত সকল শত্রু সম্পত্তির প্রশাসন, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, হস্তান্তর ইত্যাদি সরকার অথবা সরকার নির্দেশিত কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৯৭৭ সালের ২৩ মে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্পিত সম্পত্তির (জমি ও ইমারত) ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও বিলিবন্টন সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলি জারি করা হয়। চার খন্ডে বিভক্ত ৩৮টি অনুচ্ছেদের এ প্রজ্ঞাপনে ভূমি ও বাড়িঘর-সংক্রান্ত যাবতীয় সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, দখল গ্রহণ, ইজারা প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আদেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে মহকুমা প্রশাসকদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থিত অর্পিত সম্পত্তির অনুসন্ধান, দখল গ্রহণ, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও ইজারা প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে নিজে অথবা যে এলাকায় অবস্থিত সে এলাকার মহকুমা প্রশাসকের মাধামে অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর বা অন্যভাবে বিলি-বন্দোবস্ত প্রদান করার ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।

উক্ত প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় খন্ডে ভূমি এবং বাড়িঘর সম্পর্কিত অর্পিত সম্পত্তি যেসকল শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয় সেগুলি হচ্ছে কৃষি জমি, পতিত অকৃষি জমি, গ্রাম অঞ্চলের কাঁচাপাকা বাড়িঘর, শহর অঞ্চলের কাঁচাপাকা বাড়িঘর, দোকান, গুদামঘর, ফল ও ফুলের বাগান, পুকুর, দিঘি, বিল, ডাঙা ইত্যাদি এবং অর্পিত সম্পত্তির উপর বিদ্যমান অস্থাবর সম্পত্তি এবং অর্পিত সম্পত্তির সাথে সংযুক্ত অন্যান্য সম্পত্তি।

বিভিন্ন শ্রেণির স্থাবর সম্পত্তি ইজারা প্রদানের নিয়মাবলি উক্ত প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়। অর্পিত যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে সর্বোচ্চ ডাককারীর নিকট বিক্রয়ের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। তবে কোনো অর্পিত সম্পত্তি বা বই প্রত্নতাত্ত্বিক বস্ত্ত হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন মনে হলে তা জাতীয় জাদুঘর বা জাতীয় গ্রন্থাগারের নিকট হস্তান্তর করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

মহকুমা প্রশাসক বা লিখিতভাবে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিলাম ডাকের আদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) আদেশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপিল করার বিধান ছিল। বিভাগীয় কমিশনারের আদেশই চূড়ান্ত বলে গণ্য করার নির্দেশ ছিল। অবশ্য নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে বা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক যেকোন সময়ে এ নির্দেশাবলির আওতায় প্রদত্ত যেকোন অফিসারের যেকোন আদেশ পরিবর্তন করারও বিধান ছিল। ভুলবশত শত্রুসম্পত্তি তালিকাভুক্ত হওয়ায় বা অন্য কোনো সঙ্গত কারণে অনধিক পাঁচ বিঘা পর্যন্ত অর্পিত কৃষিজমি বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন গ্রহণ করে অবমুক্ত করা যেত। সরকারের অনুমোদনক্রমে পাঁচ বিঘার বেশি কৃষিজমি ও যেকোন পরিমাণ অকৃষি জমি অর্পিত সম্পত্তি তালিকা থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ ছিল।

প্রজ্ঞাপনের তৃতীয় খন্ডে অর্পিত সম্পত্তির আয় ও ব্যয়সংক্রান্ত নির্দেশ প্রদান করা হয়। ইতঃপূর্বে অর্পিত সম্পত্তির (ভূমি ও বাড়িঘর) ডেপুটি কাস্টডিয়ানের নামে খোলা পারসোনাল একাউন্ট পরিচালনার দায়িত্ব সরকারি গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগের একজন উপ-সচিবের ওপর অর্পণ করা হয়। অর্পিত সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত সকল প্রকার আয় পারসোনাল ডিপোজিট একাউন্টে জমা দিতে এবং অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় এ পারসোনাল ডিপোজিট একাউন্ট থেকে মেটানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের (রাজস্ব) অর্পিত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত যাবতীয় ব্যয়ের ত্রৈমাসিক হিসাব ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগে প্রেরণ করার এবং সময় সময় সরকারের নিকট থেকে তহবিল সংগ্রহ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের চতুর্থ খন্ডে অর্পিত সম্পত্তির সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগে, জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) অধীনে, মহকুমা পর্যায়ে মহকুমা প্রশাসকের অধীনে এবং উপজেলা পর্যায়ে সার্কেল অফিসারের (রাজস্ব) অধীনে বিশেষ সেল গঠন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে তহসিলদার নিযুক্ত করে সার্কেল অফিসারের (রাজস্ব) সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে অর্পিত সম্পত্তির অনুসন্ধান, তহসিলওয়ারি রেজিস্টার সংরক্ষণ, লিজ প্রস্তাব প্রণয়ন, লিজ নবায়ন, লিজের অর্থ আদায় ও তা পারসোনাল ডিপোজিট একাউন্টে জমা প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মহকুমা প্রশাসক, সার্কেল অফিসার (রাজস্ব) এবং ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত অতিরিক্ত কাজের জন্য নির্ধারিত হারে সম্মানী প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।

আইন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়ের ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগ ১৯৮২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ বিভাগের কার্যকর নিয়ন্ত্রণাধীন অর্পিত ও পরিত্যক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর বা বিলিবন্দোবস্ত সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি অফিস বা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক স্থান সংকুলানের জন্য যেসকল অর্পিত ও পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছে এবং যেগুলি ভাল অবস্থায় আছে সেগুলি যেভাবে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে সেভাবেই ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। জরাজীর্ণ ও কাঁচা ঘরবাড়ি এবং যে সকল বাড়ি সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন নেই, সেগুলি বর্তমান লিজগ্রহীতার নিকট নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয়ের প্রস্তাব দিতে হবে। তবে শর্ত থাকবে যে, এরূপ লিজগ্রহীতার নিজের বা স্ত্রীর বা তার কোনো পোষ্যের নামে দেশের কোনো শহর এলাকায় বাড়ি বা আবাসিক জমি থাকলে এ বিধান কার্যকর হবে না। যদি বর্তমান লিজগ্রহীতা এ বিক্রয় প্রস্তাব গ্রহণ না করে বা গ্রহণ করতে অক্ষম হয় বা গ্রহণ করার অযোগ্য হয়, তবে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে সিলমোহরকৃত দরপত্রের মাধ্যমে তা বিক্রয় করতে হবে। শহর এলাকায় অর্পিত খালি জমি সরকারের কোনো কাজে প্রয়োজন না হলে, প্রকৃত প্রতিষ্ঠান যথা স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মসজিদ ইত্যাদির নামে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদান করা যাবে। কিন্তু যদি এরূপ খালি জমি আবাসিক ব্যবহারের যোগ্য হয়, তবে তা সরকারের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী আবাসিক এলাকা হিসেবে উন্নয়ন ও বরাদ্দ করার জন্য বিভিন্ন শহর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যেমন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং গৃহনির্মাণ পরিদপ্তরের নিকট হস্তান্তর করতে হবে। বাড়িঘর বা খালি জমি যাই হোক না কেন, শহর এলাকার কোনো অর্পিত সম্পত্তি সরকারের পূর্ব-অনুমোদন ব্যতিরেকে বিক্রয়, দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত বা প্রত্যর্পণ করা যাবে না। সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণাধীন এবং দীউয়ানি মামলা বা অন্যভাবে সমস্যাযুক্ত নয় এমন অর্পিত কৃষিজমি সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানের নীতিমালা অনুসরণে ভূমিহীন বা প্রায়-ভূমিহীন কৃষকদের নিকট বন্দোবস্ত প্রদান করা যাবে।

১৯৮৩ সালের ১৭ জুলাই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সকল অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিলিবন্দোবস্ত নিষ্পন্ন করতে হবে।

ভূমি প্রশাসন বোর্ড আইন, ১৯৮১ (১৯৮১ সালের ১৩ নং আইন) অনুসারে গঠিত ভূমি প্রশাসন বোর্ডকে অন্যান্য দায়িত্বের সঙ্গে অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত যেসব দায়িত্ব প্রদান করা হয় তা হলো: অর্পিত সম্পত্তি লিজ প্রদান, লিজ নবায়ন ও অবমুক্তি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও রিভিশন গ্রহণ এবং নিষ্পত্তিকরণ; অর্পিত সম্পত্তির অবমুক্তির আবেদন/প্রস্তাব নিষ্পত্তিকরণ এবং অর্পিত সম্পত্তির সার্বিক ব্যবস্থাপনা।

মন্ত্রিপরিষদ সভার ১৯৮৩ সালের ১৭ জুলাই তারিখের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি প্রশাসন বোর্ড ১৯৯৩ সালের  ২৪ অক্টোবর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মহকুমা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহি অফিসারদের অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়াদি জরুরি ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করার জন্য বিস্তারিত নির্দেশনামা জারি করে। অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিলিবন্দোবস্তকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়। অর্পিত সম্পত্তি চিহ্নিতকরণ, সরেজমিনে পরিদর্শন ও দখল গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট এলাকার একই শ্রেণির জমির ১২ মাসের গড় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে জমির মূল্য নির্ধারণ এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্ধারিত হার মোতাবেক ঘরবাড়ির মূল্য নির্ধারণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। ভূমি প্রশাসন বোর্ড ১৯৮৩ সালের ৫ ডিসেম্বর বিভিন্ন স্তরের কমিটির দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্বলিত একটি স্মারক জারি করে। বিভিন্ন কমিটি, ভূমি প্রশাসন বোর্ড এবং ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগকে প্রতিটি অর্পিত সম্পত্তির মূল্যায়ন অনুমোদনের ক্ষমতা নিম্নোক্তভাবে প্রদান করা হয়: ক. উপজেলা কমিটি ১.৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত; খ. জেলা কমিটি ৭.৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত; গ. বিভাগীয় কমিটি ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত; ঘ. ভূমি প্রশাসন বোর্ড ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং ঙ. ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগ ৩০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে।

উপজেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত বিক্রিত সম্পত্তির ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহি অফিসারকে বিক্রয় দলিল সম্পাদন করা ও দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসককে দলিল সম্পাদন করা এবং বিক্রিত সম্পত্তির দখল প্রদান করার ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।

১৯৮৪ সালের ৯ এপ্রিল ভূমি প্রশাসন বোর্ড পুনরায় একটি নির্দেশনামা জারি করে ১৯৮৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিলিবন্দোবস্তের কাজ সমাপ্ত করার নির্দেশ দেয়। উক্ত তারিখের মধ্যে যেসব সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে না তার তালিকা ব্যাখ্যাসহ দাখিল করার জন্যও নির্দেশ প্রদান করা হয়।

অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিলিবন্দোবস্তের বিষয়াবলি নিষ্পত্তিকরণের কার্যসমূহ উপজেলা থেকে ভূমি প্রশাসন বোর্ড পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ১৯৮৪ সালের ৩১ জুলাই ঢাকাস্থ শিল্পকলা একাডেমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মহাসম্মেলনে অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর এবং নতুন করে কোনো সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয় ১৯৮৪ সালের ২৩ নভেম্বর একটি স্মারকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করেন যে, ২৩ জুন ১৯৮৪ থেকে অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিলিবন্দোবস্ত সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম এবং নতুন করে কোনো সম্পত্তি অর্পিত ঘোষণা করা স্থগিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে অর্পিত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তিকরণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। তালিকাভুক্ত যেসকল সম্পত্তির দখল গ্রহণপূর্বক একসনা ভিত্তিতে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল, শুধু সেসকল সম্পত্তিরই ইজারা নবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তালিকাভুক্ত, অথচ দখল গ্রহণ করা হয় নি, তালিকাভুক্ত নয় অথচ অর্পিত সম্পত্তি হওয়ার যোগ্য, এ ধরনের সম্পত্তির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে এসব সম্পত্তি অবৈধ দখলকারীদের দখলে রয়ে যায়। তারা বিভিন্ন পন্থায় জালিয়াতির মাধ্যমে দলিলাদি সৃষ্টি করে অবৈধ দখলকে পাকাপোক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে।

রাষ্ট্রপতির ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে অর্পিত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় যাতে অচলাবস্থার সৃষ্টি না হয় সেজন্য যে সমস্ত অর্পিত সম্পত্তি সরকারের অধীনে ও ব্যবস্থাপনায় আছে, সেগুলির ব্যবস্থাপনা, লিজ নবায়ন ইত্যাদি পূর্বের ন্যায় অব্যাহত থাকবে বলে ১৯৮৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর একটি আদেশ জারি করে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করার জন্য ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয় ভূমি প্রশাসন বোর্ডকে অনুরোধ করে। এ আদেশ অনুযায়ী ভূমি প্রশাসন বোর্ড ১৯৮৫ সালের ৯ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করতে নির্দেশ প্রদান করে: ক. চূড়ান্ত বিলিবণ্টন নীতিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কার্যকর নিয়ন্ত্রণে আনীত অর্পিত সম্পত্তি প্রচলিত আইন অনুযায়ী লিজ প্রদান করা ও লিজ নবায়ন করা অব্যাহত থাকবে; খ. লিজের শর্তাবলি যথাযথ পালন করলে এবং পাওনাদি নিয়মিত পরিশোধ করলে বর্তমান লিজগ্রহিতাকে উত্যক্ত করা যাবে না বা উৎখাত করা যাবে না; গ. সরেজমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কাউকে উৎখাত করা যাবে না।

১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জারিকৃত কয়েকটি স্মারকের বিষয়বস্ত্ত নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

স্মারক নং ৫-১৯৩/৮৫/৩৫১ (৬.৮.১৯৮৮): অর্পিত সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ, অর্পিত সম্পত্তির তালিকা ও অবমুক্তি প্রসঙ্গে জারিকৃত এ স্মারকে ৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির অবমুক্তির আদেশ বিভাগীয় কমিশনার, ১০ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির অবমুক্তির আদেশ ভূমি প্রশাসন বোর্ড, এবং তদূর্ধ্ব কৃষি জমি ও শহর এলাকার অর্পিত সম্পত্তির অবমুক্তির ক্ষমতা ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হয়।

ভূম/শা-৫/৭০৪(১২৮) (১৪.১২.১৯৮৯): জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অর্পিত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ।

ভূম/শা-৫/১৬৪ (২৬.০২.৯০): ক. অর্পিত সম্পত্তির বাজেট, আয়, অর্থ ছাড় এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সকল ব্যবস্থাদি ভূমি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করবে; খ. বিভাগীয় কমিশনারগণ ১০ একর পর্যন্ত কৃষি জমি অবমুক্ত করতে পারবেন; গ. ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে বিভাগীয় কমিশনার অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য উকিল নিয়োগ করবেন; ঘ. ঢাকা মহানগর ব্যতীত সকল জেলার জেলা প্রশাসকগণ অর্পিত সম্পত্তির একসনা লিজ প্রদানে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ঢাকা মহানগরের অর্পিত সম্পত্তির একসনা লিজে জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

ভূম/শা-৫/২৫০ (২২.৩.১৯৯০): অর্পিত সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ/বদলি এবং শৃঙ্খলাজনিত বিভাগীয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার গ্রহণ করবেন। বিভাগীয় পর্যায় বহির্ভূত ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ভূমি মন্ত্রণালয় ১৯৯০ সালের ৪ আগস্ট অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তি সম্পর্কে একটি স্মারক জারি করে। এ স্মারকে অর্পিত সম্পত্তির অবমুক্তি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাজস্ব অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ক কৌসুলি, রেভেনিউ ডেপুটি কালেক্টর, এবং সর্বোপরি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের (রাজস্ব) স্ব স্ব পর্যায়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগভাবে পর্যালোচনা করে, প্রয়োজনবোধে সরেজমিন তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সকলের শুনানি গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অর্পিত সম্পত্তির মালিক ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে ছিলেন কিনা, এ মর্মে গ্রহণযোগ্য প্রমাণাদি যাচাই করার জন্যও উক্ত স্মারকের সঙ্গে সংযোজিত ছক যথাযথভাবে পূরণপূর্বক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) সুস্পষ্ট অভিমত ও সুপারিশসহ অবমুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। ভুলক্রমে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করা হয়ে থাকলে ভুলের জন্য দায়ী কে তা নির্ধারণের জন্যও নির্দেশ প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপতির ১৯৮৪ সালের ৩১ জুলাই তারিখের ঘোষণার পর শুধু তালিকাভুক্ত এবং ইজারাপ্রদত্ত অর্পিত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও অবমুক্তির আবেদন/প্রস্তাবসমূহ বিবেচনা করাই ছিল প্রধান বিষয়। কিন্তু তালিকাভুক্ত যেসব সম্পত্তির দখল গ্রহণ করে কার্যকর ব্যবস্থাপনায় আনয়ন করা সম্ভব হয় নি এবং যেসব সম্পত্তি তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে অথচ তালিকাভুক্ত করা হয় নি, এ ধরনের বিষয়গুলির সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এতে গৃহীত হয় নি।

ভূমি সংস্কার অভিযানের সক্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা শহরের অর্পিত সম্পত্তির বাড়ি ও জমি এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবকে আহবায়ক, একজন সহকারি সচিবকে সদস্য সচিব এবং অপর পাঁচ জনকে সদস্য করে ১১ ফেব্রুয়ারি একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। টাস্ক ফোর্সের কর্মপরিধি ছিল এরূপ: ক. ঢাকা শহরের আওতায় সকল অর্পিত সম্পত্তির বাড়ি ও জমি এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি চিহ্নিতকরণ, খ. অবৈধ ও বেনামি দখলদারদের তালিকা প্রস্ত্ততকরণ, গ. বকেয়া ভাড়ার পূর্ণ বিবরণ প্রস্ত্ততকরণ এবং ঘ. বিবিধ।

গঠিত টাস্ক ফোর্সের কাজ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশ ছাড়া ঢাকা শহরের অর্পিত সম্পত্তির সকল ধরনের নবায়ন, লিজ প্রদান ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৯ সালের ১ জুন জারিকৃত ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক আদেশের মাধ্যমে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে লিজ নবায়ন ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া।

টাস্ক ফোর্স ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন প্রতিবেদন দাখিল করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ঢাকা মহানগরীতে ১,৭২২টি হোল্ডিংভুক্ত ১২৫ একর অর্পিত সম্পত্তি অবৈধ দখলকার ও মালিকানা দাবিদারদের দখলে আছে। সেন্সাস তালিকা বহির্ভূত ১,৫৯৯টি হোল্ডিং রয়েছে এবং সেন্সাস তালিকা বহির্ভূত ৬৯৯টি হোল্ডিং অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবস্থাপনার যোগ্য।

১৯৯৫ সালের ২ এপ্রিল টাস্ক ফোর্স বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ওই তারিখ পর্যন্ত টাস্ক ফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। রাষ্ট্রপতির ১৯৮৪ সালের ৩১ জুলাইর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে কোনো সম্পত্তি অর্পিত ঘোষণা করার সুযোগ ছিল না। এজন্য ভূমি মন্ত্রণালয় পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর ৯২ ধারার বিধানমতে মালিক পরিত্যক্ত ও অবৈধ দখলদার কবলিত সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনয়নের জন্য ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ১৯৯৫ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মালিক দাবিদার/দখলদারদের শুনানি প্রদানক্রমে বাস্তব অবস্থা নিরূপণের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিসমূহের সুপারিশের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর চলমান জরিপের রেকর্ড সংশোধন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে একজন সাবেক সচিবসহ ভূমি আইন সম্বন্ধে অভিজ্ঞ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত কয়েকটি কমিটি মালিক দাবিদার/দখলদারদের শুনানি দিয়ে সুপারিশ প্রদান করলে ভূমি সংস্কার বোর্ড তা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক, ঢাকা বরাবর প্রেরণ করেন। ঢাকা মহানগরীর সম্পত্তি সম্বন্ধে কমিটির এসব সুপারিশ এ যাবত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নি।

পরিত্যক্ত সম্পত্তি  স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশে অনেক সম্পত্তি পরিত্যক্ত বলে চিহ্নিত হয়। এগুলির মালিকরা মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত হয় কিংবা বাংলাদেশ ত্যাগ করে এবং অনেকের কোন ঠিকানা জানা যায় না। এসব সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, নিষ্পত্তির ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি) আদেশ জারি করেন। এই আদেশের ২৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ৮ মে বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি) বিধিও জারি করেন। এই আদেশের ২নং ধারার দফা (১) ক. ২৫ মার্চ, ১৯৭১ সালের পর যেকোন সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কিংবা সামরিক অভিযানে নিয়োজিত ছিল এমন কোন রাষ্ট্রের নাগরিকের সম্পত্তি; এবং খ. বাংলাদেশ শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ আদেশের আওতায় ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত যেকোন সম্পত্তিসহ যে ব্যক্তি বাংলাদেশে উপস্থিত নেই কিংবা যার নিবাস-ঠিকানা ইত্যাদি অজ্ঞাত কিংবা যে ব্যক্তি আর তার সম্পত্তির দখলে নেই কিংবা তত্ত্বাবধানে নেই বা ব্যবস্থাপনাও করছে না এমন সকল সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তবে এই দফা অনুযায়ী, পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলতে এমন কোন সম্পত্তিকে বোঝাবে না যে সম্পত্তির মালিক এমন কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বাইরে বাস করছেন যা সরকারের মতে বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর নয়, এবং যে সম্পত্তি আপাতত সাময়িককালের জন্য বলবৎ আইনের আওতায় সরকারের দখলে রয়েছে কিংবা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (জমি, ভবন বা অন্য কোন সম্পত্তি) বিধি অনুসারে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলতে, ক. এই আইনের আওতায় যেকোন প্রকারের নির্মিত কাঠামো ও জমিসহ ভবন (দালান/ইমারত) ও এসবের প্রয়োজনীয় সংলগ্ন অংশ; খ. কৃষিজমি, উদ্যান (বাগান জমি) ও অকৃষি জমিসহ জমি ও বছরের যেকোন একসময় জলমগ্ন জমি এবং এ ধরনের জমি থেকে উদ্ভূত সুবিধাদিসহ জমিকে বোঝায়।

একটি সম্পত্তির হেফাজত গ্রহণ, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং হস্তান্তর বা অন্য কোনভাবে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে এই আদেশের আওতায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার তার বিবেচনায় আবশ্যক বা উপযুক্ত এমন সকল ব্যবস্থা নিতে পারেন, এমন সকল কাজ করতে পারেন ও ব্যয় বহন করতে পারেন যার প্রয়োজন রয়েছে বা যে ব্যয় ঐ সম্পত্তির আনুষঙ্গিক হিসাবে করা হতে পারে। সরকারকে প্রদত্ত আরও ক্ষমতা অনুযায়ী সরকার, ১. যেকোন এলাকা, বা এলাকাসমূহ, বা পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা শ্রেণি বা একাধিক শ্রেণির পরিত্যক্ত সম্পত্তিসমূহের জ

যোগাযোগ

  • Deputy Comissioner Office, Nilphamari

hotline

01712931626